নানা সংকট ও আস্থার চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেলেও দেশের ব্যাংক খাতে আমানতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ নভেম্বর মাসে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ কমেছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। ফলে টানা দুই মাস পর আবারও আমানতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ফিরেছে দুই অঙ্কে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা, যা আগের মাস অক্টোবর শেষে ছিল ১৯ লাখ ২৪ হাজার ১২১ কোটি টাকা। এক মাসের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে প্রায় ২৯ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। এক বছর আগের নভেম্বর শেষে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। ফলে এক বছরে আমানত বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ। অক্টোবর পর্যন্ত এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসা, তুলনামূলক উচ্চ সুদের হার, নিরাপত্তাজনিত কারণে নগদ অর্থ ব্যাংকে ফেরানো, শক্ত ভিত্তির কিছু ব্যাংকের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় আমানত বৃদ্ধির এই ধারা গতি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাদের সময়–কে বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। তবে এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ কমে আসার প্রবণতাও স্পষ্ট। গত জুন শেষে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ ছিল ২ লাখ ৯৬ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা, যা নভেম্বর শেষে কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকায়। ফলে পাঁচ মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ কমেছে প্রায় ২৭ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্বল ব্যাংকের তদারকি জোরদার, রেজোল্যুশন ও একীভূতকরণসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংস্কারমূলক উদ্যোগ ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হচ্ছে, যা আমানত বৃদ্ধির এই ধারাকে টেকসই করতে পারে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
সংকটের মধ্যেও ব্যাংকের আমানতে সুদিন
- আপলোড সময় : ২১-০১-২০২৬ ১২:১৯:২৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-০১-২০২৬ ১২:১৯:২৯ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার